গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬ এ ০৩:৪৮ PM
কন্টেন্ট: পাতা
ক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পসমূহ:
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে নিম্নোক্ত ০৭ টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তন্মধ্যে ০৬টি প্রকল্প যথা: (১) বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের আওতায় ৫টি বেসিক সেন্টারে ৫টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ১টি ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউট এবং ২টি মার্কেট প্রমোশন কেন্দ্র স্থাপন (২য় সংশোধিত); (২) তাঁতিদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে চলতি মুলধন সরবরাহ ও তাঁতের আধুনিকায়ন (১ম সংশোধিত); (৩) শেখ হাসিনা নকশিপল্লি, জামালপুর (১ম পর্যায়) (১ম সংশোধিত); (৪) জামদানি ভিলেজ স্থাপন; (৫) বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড কমপ্লেক্স স্থাপন, মিরপুর, ঢাকা এবং (৬) বাংলাদেশের সোনালী ঐতিহ্য মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার (২য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অপর ০১টি প্রকল্প যথা: (১) ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ির বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপন, পাথরাইল, টাঙ্গাইল। সে অনুসারে বাস্তবায়নাধীন ০৬টি প্রকল্পের অনুকূলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আরএডিপি’তে ৫৭২০.০০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আছে।
ক.১ বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহ:
ক.১.১ বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের আওতায় ০৫টি বেসিক সেন্টারে ০৫টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ১টি ফ্যাশন ডিজাইন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউ এবং ২টি মার্কেট প্রমোশন কেন্দ্র স্থাপন (২য় সংশোধিত):
বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের আওতায় ০৫টি বেসিক সেন্টারে ০৫টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ১টি ফ্যাশন ডিজাইন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউ এবং ২টি মার্কেট প্রমোশন কেন্দ্র স্থাপন (২য় সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তাঁতিদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান; পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন ডিজাইন উদ্ভাবন; প্রান্তিক তাঁতিদের দ্বারা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা, মানব সম্পদ উন্নয়ন এবং সর্বোপরি, তাঁতিদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে “বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের আওতায় ০৫টি বেসিক সেন্টারে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ০১টি ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউট এবং ০২টি মার্কেট প্রমোশন কেন্দ্র স্থাপন (২য় সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পটি ১৩০২৬.০০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ ব্যয়ে জুলাই ২০১৮ হতে জুন, ২০২৬ মেয়াদে ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরিকে মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তাঁতিদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সেলস সেন্টার স্থাপন করে বিপণন সুবিধা জোরদারকরণের উদ্দেশ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও ঢাকার কারওয়ান বাজারে দুইটি মার্কেট প্রমোশন সেন্টার স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষে ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউট হতে বছরে ৫০ জনকে ডিপ্লোমা ডিগ্রি, ২৪০ জনকে ০৮টি বিষয়ের উপর সার্টিফিকেট এবং ১৫০ জনকে ০৫টি শর্টকোর্সের উপর সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। ০৫টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রত্যেকটি হতে ৩০০ জন করে বছরে ১৫০০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এতে, দেশের তাঁতিদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে ও বস্ত্র প্রযুক্তিবিদ সৃষ্টি হবে। দুইটি মার্কেট প্রমোশন কেন্দ্রের মাধ্যমে তাঁতপণ্যের বিপণন সুবিধা সৃষ্টি হবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপিতে প্রকল্পটির অনুকূলে ২৫৭৫.০০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। চলতি অর্থবছরের জুন, ২০২৬ পর্যন্ত অবমুক্ত করা হয়েছে ১ম থেকে ৪র্থ কিস্তি বাবদ সম্পূর্ণ অর্থছাড় করা হয়েছে, তন্মধ্যে ২৫২০.৪১ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। প্রকল্পের শুরু থেকে জুন, ২০২৬ পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় ১২৪২৯.২৮ লক্ষ টাকা এবং ক্রমপুঞ্জিত আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি যথাক্রমে ৯৫.৪২% এবং ৯৭.০০%। প্রকল্পের আওতায় ০১টি ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার শিহুরী মৌজায় ৫.০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ০৫টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ০২টি মার্কেট প্রমোশন কেন্দ্র ও ০১টি ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউটের স্থাপত্য নকশা চূড়ান্তপূর্বক কাহালু, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, কুমারখালী ও আড়াইহাজারে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, জামালপুরে ফ্যাশন ডিজাইন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ও কাওরান বাজারে মার্কেট প্রমোশন সেন্টারের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ০২টি মার্কেট প্রমোশন কেন্দ্রের মধ্যে কুমারখালী, কুষ্টিয়া মার্কেট প্রমোশন কেন্দ্র বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড-কে বুঝে দেয়া হয়েছে। অপর কেন্দ্র কাওরান বাজারস্থ মার্কেট প্রমোশন সেন্টারের ফিনিশিং এর কাজ চলমান রয়েছে;
ক.১.২ তাঁতিদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে চলতি মূলধন সরবরাহ ও তাঁতের আধুনিকায়ন (২য় সংশোধিত):
বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “তাঁতিদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে চলতি মূলধন সরবরাহ ও তাঁতের আধুনিকায়ন (২য় সংশোধিত)“ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তাঁত বস্ত্রের উৎপাদন ও তাঁতিদের আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে তাঁতশিল্পীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, প্রায় ২১,৬০০ জন তাঁতিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও নারী তাঁতিদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মোট ১৫৮০০.০০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ ব্যয়ে ‘তাঁতিদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে চলতি মূলধন সরবরাহ ও তাঁতের আধুনিকায়ন (২য় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পটি মার্চ, ২০১৯ হতে জুন, ২০২৬ মেয়াদে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পটির অনুকূলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আরএডিপিতে ৭২০.০০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। চলতি অর্থবছরের জুন, ২০২৬ পর্যন্ত অবমুক্ত করা হয়েছে ৭১৫.৭০ লক্ষ টাকা। প্রকল্পের শুরু থেকে জুন, ২০২৬ পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় ১৫৭৮৪.৪৭ লক্ষ টাকা এবং ক্রমপুঞ্জিত আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি যথাক্রমে ৯৯.৯০% এবং ১০০.০০%। প্রকল্পের আওতায় ডিসেম্বর, ২০১৯ থেকে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান আছে। যা ঘূর্ণায়মান ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রম চলমান থাকবে।
ক.১.৩ শেখ হাসিনা নকশিপল্লি, জামালপুর (১ম পর্যায়) (২য় সংশোধিত):
আলোচ্য প্রকল্পের বিষয়ে বাস্তবতার নিরীখে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত প্রকল্প পর্যালোচনা সভার আলোচনা ও সিদ্ধান্তের আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে আইএমইডির মতামত/সুপারিশের আলোকে প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত রেখে সমাপ্তকরণ প্রস্তাবের আরডিপিপি সংশোধনপূর্বক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়। পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক অত্র প্রকল্পটি অসমাপ্ত রেখে সমাপ্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
ক.১.৪ জামদানি ভিলেজ স্থাপন:
বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “জামদানি ভিলেজ স্থাপন” শীর্ষক প্রকল্পটি আওতায় ১৮.০৯.২০২৩ তারিখে ৩২৫০.০০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবতে জুলাই, ২০২৩ থেকে জুন, ২০২৬ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। ২০২৭ মেয়াদে ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরিকে ১বছর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পের অনুকূলে আরএডিপিতে ২০০.০০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আছে।চলতি অর্থবছরের জুন, ২০২৬ পর্যন্ত অবমুক্ত করা হয়েছে ১ম থেকে ৪র্থ কিস্তি বাবদ সম্পূর্ণ অর্থছাড় করা হয়েছে, তন্মধ্যে, জুন ২০২৬ পর্যন্ত ১৯৮.৬২ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে;
প্রকল্পের আওতায় ০৩ (তিন) তলা ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে কনসালটেন্ট নিয়োগপূর্বক সম্পন্ন হয়েছে। ভবনের স্থাপত্য নকশা ও চূড়ান্ত প্রাক্কলন প্রস্তুতকরে দরপত্র আহ্বান করা হয়। মূল্যায়ণে সকল প্রস্তাব নন-রিসপনসিভ বিবেচিত হওয়ায় পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্নপূর্বক ঠিকাদার নিয়োগ করে পূর্ত কাজ শুরু করা হয় এবং পাইলিং এর কাজ চলমানে রয়েছে;
কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের সকল কার্যক্রম চলমান থাকবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ি তথা তাঁত শিল্পের টেকসই উন্নয়ন সাধিত হবে, বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, তাঁত বস্ত্রের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। প্রকল্পের অনুকূলে আদর্শ জামদানী গবেষণা ও নকশা উন্নয়ন কেন্দ্র তৈরি এবং প্রদর্শনী কাম-বিক্রয় কেন্দ্র তৈরি বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরএডিপিতে প্রকল্পটির অনুকূলে ২০০.০০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। প্রকল্পের শুরু থেকে জুন,২০২৬ পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় ৩৭৮.৯৬ লক্ষ টাকা এবং ক্রমপুঞ্জিত আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি যথাক্রমে ১১.৬৬% এবং ২৫.০০%।
ক.১.৫ বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড কমপ্লেক্স স্থাপন, মিরপুর, ঢাকা:
প্রকল্পের আওতায় মূল ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে কাঠামোগত নকশা চূড়ান্তপূর্বক প্রকল্পের মূল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে পাইলিং ও ম্যাট ফাউন্ডেশন সম্পন্ন করে বেজমেন্ট নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ভবন নির্মাণের অন্যান্য কাজ চলমান থাকবে;
২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পের অনুকূলে আরএডিপিতে ১৭৮৫.০০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আছে। ১ম থেকে ৪র্থ কিস্তি বাবদ ১৭৮৫.০০ লক্ষ টাকা অর্থছাড় করা হয়েছে, তন্মধ্যে ১৭৫৪.৭২ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে;
উক্ত প্রকল্পটির বাস্তবায়নের মেয়াদকাল জুলাই, ২০২৪ হতে জুন, ২০২৭।
ক.১.৬ “বাংলাদেশের সোনালী ঐতিহ্য মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার (২য় পর্যায়)”:
প্রকল্পের অনুকূলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আরএডিপিতে ৪৪০.০০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। বরাদ্দকৃত অর্থের ১ম থেকে ৪র্থ কিস্তি বাবদ ৪৪০.০০ লক্ষ টাকা অর্থছাড় করা হয়েছে, তন্মধ্যে ৪২৬.২৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে;
প্রকল্পের আওতায় ফুটি কার্পাস তুলার জাত উন্নয়ন এবং টেক্সটাইল পার্টের গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে;
ফুটি কার্পাস তুলার জাতউন্নয়ন বিষয়ক একটি সেমিনার আয়োজন করা হবে।
ক.২ অনুমোদনের অপেক্ষাধীন প্রকল্পসমূহের সর্বশেষ অবস্থা:
চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি)-তে অন্তর্ভুক্তি ও বরাদ্দ নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের নিম্নে বর্ণিত প্রস্তাবকৃত প্রকল্পসমূহ:
(লক্ষ টাকায়)
| ক্রঃ নং | প্রকল্পের নাম | প্রকল্প ব্যয় | অনুমোদন পর্যায় | ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আরএডিপিতে বরাদ্দ |
| (ক) | চলতি প্রকল্পঃ | |||
| ১। | বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের আওতায় ৫টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ১টি ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউট ও ২টি মার্কেট প্রমোশন কেন্দ্র স্থাপন (২য় সংশোধিত) | ১৩০২৬.০০ | অনুমোদিত | ৩২৫.০০ |
| ২। |
জামদানি ভিলেজ স্থাপন | ৩২৫০.০০ | অনুমোদিত | ৮০০.০০ |
| ৩। | বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড কমপ্লেক্স স্থাপন, মিরপুর, ঢাকা | ১১৫০০.০০ | অনুমোদিত | ৪০০০.০০ |
| ৪। | বাংলাদেশের সোনালী ঐতিহ্য মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার (২য় পর্যায়) | ১৮৫০.০০ | অনুমোদিত | ৪০০.০০ |
| উপমোট (ক)= | ২৯৬২৬.০০ | ৫৫২৫.০০ | ||
| (খ) | নতুন অননুমোদিত প্রকল্পঃ | |||
| ১। | ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ির বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপন, পাথরাইল, টাঙ্গাইল | ৯৭৫০.০০ | অননুমোদিত | -- |
| ২। | নরসিংদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, নরসিংদী এর অবকাঠামো নির্মাণ এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সম্প্রসারণ | ২২০০০.০০ | অননুমোদিত | -- |
| ৩। | তাঁত খাত ও তাঁতিদের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প | ৩৫৮০০.০০ | অননুমোদিত | -- |
| ৪। | কুমিল্লার খাদি শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে খাদি শিল্প স্থাপন | ৪৯০০.০০ | অননুমোদিত | -- |
| ৫। | জামালপুরের নকশি শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে নকশিপল্লি স্থাপন | ৯৮৫০.০০ | অননুমোদিত | -- |
| ৬। | তাঁত খাতের বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ডিজিটাল অনলাইন মার্কেটিং ব্যবস্থা চালুকরণ | ৪৫৭৫.০০ | অননুমোদিত | -- |
| উপমোট (খ)= | ৮৬,৮৭৫.০০ | -- | ||
| মোট (ক)+(খ)= | ১১৬৫০১.০০ | ৫৫২৫.০০ |
খ) বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রকল্পসমূহ:
খ.১ এস্টাবলিশমেন্ট অব থ্রি হ্যান্ডলুম সার্ভিস সেন্টারস ইন ডিফারেন্ট লুম ইনটেনসিভ এরিয়া (২য় সংশোধিত):
দেশের তাঁত অধ্যুষিত এলাকায় তাঁতিদের বয়নপূর্ব ও বয়নোত্তর সেবা (সুতা এবং কাপড় রংকরণ, মার্সারাইজিং, ক্যালেন্ডারিং, স্টেন্টারিং ইত্যাদি) প্রদানের লক্ষ্যে “এস্টাবলিশমেন্ট অব থ্রি হ্যান্ডলুম সার্ভিস সেন্টারস ইন ডিফারেন্ট লুম ইনটেনসিভ এরিয়া (২য় সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পটি ৫৫৬৬.২২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতাভূক্ত ৩টি সার্ভিস সেন্টার হলোঃ- (১) কালিহাতী, টাংগাইল; (২) কুমারখালী, কুষ্টিয়া এবং (৩) শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ।
উক্ত সার্ভিস সেন্টার ০৩ টির মধ্যে কালিহাতী সার্ভিস সেন্টারের সেবা প্রদান কার্যক্রম গত ১৮.০৩.২০২৩ তারিখে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয় কর্তৃক উদ্বোধন করা হয়েছে। শাহজাদপুর ও কুমারখালী সার্ভিস সেন্টারে খুলনা শিপইয়ার্ড লি: কর্তৃক সরবরাহকৃত ৫৯ সেট যন্ত্রপাতি বাতাঁবো’ র টেকনিক্যাল কমিটি কর্তৃক গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
খ.২ বাংলাদেশের সোনালী ঐতিহ্য মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার (১ম পর্যায়) (১ম সংশোধিত):
মসলিন প্রযুক্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ব্যাপক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা, মসলিন কাপড়ের নমুনা সংগ্রহ এবং নমুনা মসলিন কাপড়ের সুতার DNA সিকোয়েন্স পরীক্ষণ, মসলিনের সুতা তৈরির “ফুটি কার্পাস” (বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে আছে কিনা) অনুসন্ধান করা, “ফুটি কার্পাস” উদ্ভিদের DNA এর সাথে মসলিন কাপড়ের DNA বিশ্লেষণ করে কাঙ্ক্ষিত ভ্যারাইটি সনাক্তকরণ এবং মসলিনের সুতা ও কাপড় তৈরির প্রযুক্তি পুনরুদ্ধার, মসলিন কাপড় তৈরির উপযোগী “ফুটি কার্পাস” তুলার জাত পাওয়া না গেলে সমজাতীয় তুলার জার্ম-প্লাজম সংগ্রহ করার লক্ষ্যে “বাংলাদেশের সোনালী ঐতিহ্য মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার (১ম পর্যায়) (১ম সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পটি 1111.969 লক্ষ টাকা বিনিয়োগ ব্যয়ে জুলাই, ২০১৮ হতে জুন, ২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধারের জন্য রেজিস্ট্রার, পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর কর্তৃক বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের অনুকূলে ২৫.০৩.২০২১ তারিখে ঢাকাই মসলিন এর ভৌগোলিক নির্দেশক নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়। ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধারের জন্য ‘জনপ্রশাসন পদক-২০২১’ এর প্রাতিষ্ঠানিক ক্যাটাগরির সাধারণ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সোনালী ঐতিহ্য মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধারের কারণে আলোচ্য প্রকল্পকে গত ২৭.০৭.২০২১ তারিখে জনপ্রশাসন পদক প্রদান করা হয়। প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবতে ‘ঢাকাই মসলিন হাউস’ স্থাপন এবং ৩১৬ জন দক্ষ স্পিনার তৈরি করা হয়েছে। গত 1৬.05.2023 তারিখে মসলিন প্রযুক্তি বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের বিষয়ে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনে সেমিনার আয়োজন করা হয় এবং 1৭.06.2023 তারিখে বাতাঁবোর সভা কক্ষে এ বিষয়ে নীতিমালা নির্ধারণের জন্য একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রস্তুতকৃত নীতিমালার বিষয়ে ১৬.০৫.২০২৪ তারিখে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
খ.৩ শেখ হাসিনা তাঁতপল্লি স্থাপন -১ম পর্যায় (১ম সংশোধিত):
তাঁতি এবং তাঁতি পরিবারের জন্য উন্নত পরিবেশ ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি, তাঁতিদের জীবনযাত্রার মান ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন সাধন এবং তাঁত শিল্পের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ১ম পর্যায়ে ভূমি অধিগ্রহণ ও ভূমি উন্নয়নসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে “শেখ হাসিনা তাঁত পল্লি স্থাপন- ১ম পর্যায় (১ম সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পটি 29661.30 লক্ষ টাকা বিনিয়োগ ব্যয়ে জুলাই, ২০১৮ থেকে জুন, ২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কুতুবপুর মৌজার ৬০.০০ একর এবং শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার নাওডোবা মৌজার ৫৯.৭৩ একর অর্থাৎ মোট ১১৯.৭৩ একর জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়। অধিগ্রহণকৃত জমির ভূমি উন্নয়ন এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের ২য় পর্যায়ের ডিপিপি প্রণয়নের নিমিত্ত প্রকল্পের মাস্টার প্ল্যান ও স্থাপত্য নকশা চূড়ান্তকরণের বিষয়ে ২৩.০১.২০২৪ তারিখে স্থাপত্য অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং বাতাঁবো’র সমন্বয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইতোমধ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তর হতে খসড়া মাস্টারপ্ল্যান পাওয়া গেছে যা চূড়ান্তপূর্বক স্থাপত্য নকশা প্রণয়নের জন্য স্থাপত্য অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।
খ.৪ বাংলাদেশ তাঁত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, নরসিংদী এর আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ (১ম সংশোধিত):
উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাঁতিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান, আধুনিক ও স্মার্ট পণ্যের চাহিদা এবং গ্রাহকদের রুচির সাথে সামঞ্জস্য রেখে তাঁত ও টেক্সটাইল পণ্যের ডিজাইন উদ্ভাবন করা, বিদ্যমান ইনস্টিটিউটের অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে “বাংলাদেশ তাঁত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, নরসিংদী এর আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ (১ম সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় রয়েছে নরসিংদী জেলার সাহেপ্রতাপে ৬তলা বিশিষ্ট অফিস কাম একাডেমিক বিল্ডিং, অডিটোরিয়াম ভবন, তিন তলা বিশিষ্ট মহিলা হোস্টেল ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ। এ ইনস্টিটিউট হতে প্রতিবছর ১০০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে ডিপ্লোমা ডিগ্রি প্রদান করা হবে। প্রকল্পটি মোট ৬০১৫.০০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ ব্যয়ে জুলাই, ২০১৮ হতে জুন, ২০২৪ মেয়াদে বাস্তবায়িত হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের আরএডিপিতে প্রকল্পটির অনুকূলে ২830.০০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। গত অর্থবছরের জুন, ২০২৪ মাস পর্যন্ত প্রকল্পের অনুকূলে ২৮২৮.24 লক্ষ টাকা অবমুক্ত করা হয়। প্রকল্পের শুরু থেকে জুন, ২০২৪ মাস পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় ৫৮৭৭.৪৬ লক্ষ টাকা। ক্রমপুঞ্জিত আর্থিক অগ্রগতি ৯৭.৭১% এবং বাস্তব অগ্রগতি ১০০%। প্রকল্পটি ৩০ জুন, ২০২৪ তারিখে সমাপ্ত হয়।